Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Saturday, November 26, 2016

আঁধারের যাত্রী

চারিদিকে ধু-ধু রাতি— সৃজনের অন্ধকাররাশি,
জোনাকির মতো প্রাণ তার মাঝে চলিছে উদাসী!
পত্রগুচ্ছে যে-টুকু নিশীথ,
যে-খণ্ড আঁধারটুকু, যে-তুষার শীত,
তারি বুকে ঢালি তাপ, জ্বালি আমি শিখা,
অনন্ত শর্বরী দূরে ছড়ায়েছে ব্যথা-বিভীষিকা!
কোন দূর অলক্ষ্যের পানে
স্পন্দহীন প্রেতপুরে— শোকের শ্মশানে,
মূক তরুচ্ছায়াতলে, নিঃশব্দ গহ্বরে
কলহীন তটিনীর তরঙ্গের ‘পরে
ছুটিয়া যেতেছে মোর সচকিত প্রাণ,
মৌন অভিযান!
আমার এ কম্প্রবক্ষে তৃপ্তিহীন বিচ্ছুরণ জ্বলে;
দূরে-দূরে দিগন্তের তলে
ছুটে যাই দিশাহারা, আকুল, চঞ্চল,
কেঁদে ওঠে বিটপীর ভগ্নশাখা, বনানীর পল্লব-অঞ্চল!
বালুকাসৈকতে বাজে তটিনীর গান
ক্ষুদ্ধ ম্রিয়মাণ!
সৃজন-পুলিনে বসি মায়াবীর বেশে
অন্তহীন ইন্দ্রজাল রচিতেছে কে সে!
কোথা তব গুপ্ত কক্ষ—রহস্যের দ্বার
ওগো অন্ধকার!
হে অচল রুদ্ধ আয়তন,
বিজন গোপন!
তমিস্রার ঊর্মিরাশি—দুশ্চর, দুস্তর,
চিররাত্রি— তার মাঝে আমি নিশাচর!
নিষ্প্রভ এ-চোখে মোর পশে নাকো নক্ষত্রের শিখা,
দীপহীন অমাতটে নাচে একা প্রাণ খদ্যোতিকা!
প্রান্তরের পারে জ্বলে অনেক আলেয়া,
তার মাঝে মোর এই নিশীথের খেয়া
চলে একা ভেসে,
স্বপ্নাবিষ্ট মৌন অভিসারিকার বেশে!

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !