Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Sunday, November 13, 2016

প্রেম অপ্রেমর কবিতা

নিরাশার খাতে ততোধিক লোক উৎসাহ বাঁচায়ে রেখেছে;

অগ্নিপরীক্ষার মতো কেবলি সময় এসে দ’হে ফেলে দিতেছে সে-সব।

তোমার মৃত্যুর পরে আগুনের একতিল বেশি অধিকার

সিংহ মেষ কন্যা মীন করেছে প্রত্যক্ষ অনুভব।

পৃথিবী ক্রমশ তার আগেকার ছবি

বদলায়ে ফেলে দিয়ে তবুও পৃথিবী হ’য়ে আছে;

অপরিচিতের মতো সমাজ সংসার শত্রু  সবই

পরিচিত বুনোনির মতো তবু হৃদয়ের কাছে

ক্রমশই মনে হয় নিজ সজীবতা নিয়ে চমৎকার;

আবর্তিত হ’য়ে যায় দানবের মায়াবলে তবুও সে-সব।

তোমার মৃত্যুর পরে মনিবের একতিল বেশি অধিকার

দীর্ঘ কালকেতু তুলে বাধা দিতে চেয়েছে রাসভ।

তোমার প্রতিজ্ঞা ভেঙে ফেলে তুমি চ’লে গেলে কবে।

সেই থেকে অন্য প্রকৃতির অনুভবে

মাঝে-মাঝে উৎকন্ঠিত হ’য়ে জেগে উঠেছে হৃদয়।

না-হ’লে নিরুৎসাহিত হ’তে হয়।

জীবনের, মরণের, হেমন্তের এ-রকম আশ্চর্য নিয়ম;

ছায়া হ’য়ে গেছো ব’লে তোমাকে এমন অসম্ভ্রম।

শত্রুর অভাব নেই, বন্ধুও বিরল নয়- যদি কেঊ চায়;

সেই নারী ঢের দিন আগে এই জীবনের থেকে চ’লে গেছে।

ঢের দিন প্রকৃতি ও বইয়ের নিকট থেকে সদুত্তর চেয়ে

হৃদয় ছায়ার সাথে চালাকি করছে।

তারপর অনুভব ক’রে গেছে রমণীর ছায়া বা শরীর

অথবা হৃদয়,-

বেড়ালের বিকশিত হাসির মতন রাঙা গোধূলির মেঘে;

প্রকৃতির প্রমাণের, জীবনের দ্বারস্থ দুঃখীর মতো নয়।

তোমার সংকল্প থেকে খ’সে গিয়ে ঢের দূরে চ’লে গেলে তুমি;

হ’লেও-বা হ’য়ে যেতো এ জীবনঃ দিনরাত্রির মতো মরুভুমি;-

তবুও হেমন্তকাল এসে পড়ে পৃথিবীতে, এমন স্তব্ধতা;

জীবনেও নেই কো অন্যথা

হেমন্তের সহোদর র’য়ে গেছে, সব উত্তেজের প্রতি উদাসীন;

সকলের কাছ থেকে সুস্থির মনের ভাবে নিয়ে আসে ঋণ,

কাউকে দেয় না কিছু, এমনই কঠিন;

সরল সে নয়, তবু ভয়াবহভাবে শাদা, সাধারণ কথা

জনমানুষীর কাছে ব’লে যায়- এমনই নিয়ত সফলতা।


কাব্যগ্রন্থ - মহাপৃথিবী

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !