Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Saturday, November 12, 2016

মাঠের গল্প

মেঠো চাঁদ


মেঠো চাঁদ রয়েছে তাকায়ে

আমার মুখের দিকে, ডাইনে আর বাঁয়ে

পোড়ো জমি- খড়- নাড়া- মাঠের ফাটল,

শিশিরের জল।

মেঠো চাঁদ- কাস্তের মত বাঁকা, চোখা-

চেয়ে আছে; এমনি সে তাকায়েছে কতো রাত- নাই লেখা-জোখা।

মেঠো চাঁদ বলেঃ

‘আকাশের তলে

খেতে-খেতে লাঙ্গলের ধার

মুছে গেছে- ফসল- কাটার

সময় আসিয়া গেছে, চ’লে গেছে কবে!

শস্য ফলিয়া গেছে- তুমি কেন তবে

রয়েছো দাঁড়ায়ে

একা-একা! ডাইনে আর বাঁয়ে

নড়-নাড়া- পোড়া জমি- মাঠের ফাটল,

শিশিরের জল!’……

আমি তারে বলিঃ

‘ফসল গিয়াছে ঢের ফলি,

শস্য গিয়েছে ঝ’রে কতো-

বড়ো হ’য়ে গেছো তুমি এই বুড়ী পৃথিবীর মতো!

খেতে-খেতে লাঙ্গলের ধার

মুছে গেছে কতোবার- কতোবার ফসল-কাটার

সময় আসিয়া গেছে, চ’লে গেছে কবে!

শস্য ফলিয়া গেছে- তুমি কেন তবে

রয়েছো দাঁড়ায়ে

একা-একা! ডাইনে আর বাঁয়ে

পোড়ো জমি- খড়-নাড়া-মাঠের ফাটল,

শিশিরের জল!’

পেঁচা


প্রথম ফসল গেছে ঘরে,

হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে

শুধু শিশিরের জল;

অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে

হিম হয়ে আসে

বাঁশাপাতা– মরা ঘাস — আকাশের তারা!

বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা!

ধানক্ষেতে– মাঠে

জমিছে ধোঁয়াটে

ধারালো কুয়াশা!

ঘরে গেছে চাষা;

ঝিমায়েছে এ পৃথিবী –

তবু টের পাই

কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের

কোনো সাধ!

হলুদ পাতার ভীড়ে ব’সে,

শিশিরের পালক ঘ’ষে ঘ’ষে,

পাখার ছায়ায় শাখা ঢেকে,

ঘুম আর ঘুমন্তের ছবি দেখে দেখে

মেঠো চাঁদ আর মেঠো তারাদের সাথে

জাগে একা অঘ্রানের রাতে

সেই পাখি–

আজ মনে পড়ে

সেদিনও এমনি গেছে ঘরে

প্রথম ফসল;

মাঠে মাঠে ঝরে এই শিশিরের সুর–

কার্তিক কি অঘ্রানের রাত্রির দুপুর!–

হলুদ পাতার ভীড়ে ব’সে,

শিশিরের পালক ঘ’ষে ঘ’ষে,

পাখার ছায়ায় শাখা ঢেকে,

ঘুম আর ঘুমন্তের ছবি দেখে দেখে

মেঠো চাঁদ আর মেঠো তারাদের সাথে

জাগে একা অঘ্রানের রাতে

এই পাখি!

নদীটির শ্বাসে

সে রাতেও হিম হয়ে আসে

বাঁশাপাতা– মরা ঘাস — আকাশের তারা!

বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা!

ধানক্ষেতে– মাঠে

জমিছে ধোঁয়াটে

ধারালো কুয়াশা!

ঘরে গেছে চাষা;

ঝিমায়েছে এ পৃথিবী –

তবু আমি পেয়েছি যে টের

কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের

কোনো সাধ!

পঁচিশ বছর পর


শেষবার তার সাথে যখন হয়েছে দেখা মাঠের উপরে

বলিলাম: ‘একদিন এমন সময়

আবার আসিয়ো তুমি, আসিবার ইচ্ছা যদি হয়!–

পঁচিশ বছর পরে!’

এই বলে ফিরে আমি আসিলাম ঘরে;

তারপর কতবার চাঁদ আর তারা,

মাঠে মাঠে মরে গেল, ইদুর — পেচাঁরা

জোছনায় ধানক্ষেতে খুঁজে

এল-গেল। –চোখ বুজে

কতবার ডানে আর বায়ে

পড়িল ঘুমায়ে

কত-কেউ! — রহিলাম জেগে

আমি একা — নক্ষত্র যে বেগে

ছুটিছে আকাশে

তার চেয়ে আগে চলে আসে

যদিও সময়–

পঁচিশ বছর তবু কই শেষ হয়!–

তারপর — একদিন

আবার হলদে তৃণ

ভরে আছে মাঠে- –

পাতায় শুকনো ডাঁটে

ভাসিছে কুয়াশা

দিকে দিকে, চুড়ায়ের ভাঙা বাসা

শিশিরে গিয়েছে ভিজে — পথের উপর

পাখির ডিমের খোলা, ঠান্ডা-কড়কড়!

শসাফুল — দু-একটা নষ্ট শাদা শসা

মাকড়ের ছেঁড়া জাল, শুকনো মাকড়সা

লতায় — পাতায়;

ফুটফুটে জোছনারাতে পথ চেনা যায়;

দেখা যায় কয়েকটা তারা

হিম আকাশের গায় — ইদুর পেঁচারা

ঘুরে যায় মাঠে মাঠে, ক্ষুদ খেয়ে ওদের পিপাসা আজও মেটে,

পঁচিশ বছর তবু গেছে কবে কেটে!

কার্তিক মাঠের চাঁদ


জেগে ওঠে হৃদয়ে আবেগ —

পাহাড়ের মতো অই মেঘ

সঙ্গে লয়ে আসে

মাঝরাতে কিংবা শেষরাতে আকাশে

যখন তোমারে! —

মৃত কে পৃথিবী এক আজ রাতে ছেড়ে দিল যারে!

ছেঁড়া ছেঁড়া শাদা মেঘ ভয় পেয়ে গেছে সব চলে

তরাসে ছেলের মতো– আকাশে নক্ষত্র গেছে জ্ব’লে

অনেক সময়–

তারপর তুমি এলে, মাঠের শিয়রে– চাঁদ–

পৃথিবীতে আজ আর যা হবার নয়,

একদিন হয়েছে যা– তারপর হাতছাড়া হয়ে

হারায়ে ফুরায়ে গেছে– আজও তুমি তার স্বাদ লয়ে

আর-একবার তবু দাঁড়ায়েছ এসে!

নিড়োনো হয়েছে মাঠ পৃথিবীর চার দিকে,

শস্যের ক্ষেত চেষে চেষে

গেছে চাষা চ’লে;

তাদের মাটির গল্প– তাদের মাঠের গল্প সব শেষ হলে

অনেক তবুও থাকে বাকি–

তুমি জানো– এ পৃথিবীর আজ জানে তা কি!

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !